রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

'না' বলতে শিখুন...

সবসময় কর্পোরেট ভালোবাসার ক্যাচের ম্যাচের কি আর ভালো লাগে? আমার লাগেনা... চারিদিকে তাকাই একটু পিউর কিছু দেখার আশায় কিন্তু অন্যকিছু দেখে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হই। আমরা অ্যাডমিনরা কোন দার্শনিক কিংবা জ্ঞানী নই, তবুও নিজেদের কিংবা আশেপাশের মানুষের জীবনের ছোটখাট বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করি। যাইহোক আসল কথায় আসি... "না" বলা নিয়ে...

সেটা হল সরল সোজা সাধারণ মানুষরা কর্পোরেট পাবলিকের চাপের মুখে পড়ে "না" বলতে পারেনা। কিন্তু আমাদের অনেকেই হয়তো কখনো ভেবে দেখিনি "না" বলতে পারাটা অনেক বড় গুন।
সবার সব কথা আপনি রাখতে পারবেননা কিংবা রাখতে চাইবেন না এটা খুবই স্বাভাবিক কথা... মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে।

কিন্তু সহজ সরল বেশীরভাগ মানুষকে যখন কোন সুযোগসন্ধানী এসে কোন কিছু করতে অনুরোধ করে তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক সময় সেই মানুষটা "হ্যাঁ" বলেন। কিংবা দেখা যায় ভালোবাসেন কিংবা স্নেহ করেন বলে কাউকে না বলতে পারেন না... অথবা কেউ এসে আপনাকে তেল মেরে "হ্যাঁ" আদায় করে নিয়ে যায়।

কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন সবার সব কথা মেনে নিয়ে কিংবা একই মানুষের সব কথা কিংবা কাজে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সায় দিয়ে নিজের মতামতের গুরুত্ব কমিয়ে ফেলছেন? সে আপনার সামনে হয়তো আপনার জয়গান করবে, কিন্তু বাইরে গিয়ে ঠিকই বলবে, "আরে ওই ব্যাটা আবার কি বলবে? ওর আবার কি মতামত, কোনমতে আমি বুঝিয়ে দিলেই আমার কথামতো হ্যাঁ হ্যাঁ করবে"

নিজের মুল্য বুঝতে শিখুন। আপনি নিজেই যদি নিজের মতামতের গুরুত্ব না দেন তাহলে আপনি অন্যের গুরুত্ব পাবেন এমন আশা করতে পারবেন না। তাই এখন থেকে না বলতে শিখুন... না বলতে পারার জন্য সাহসের দরকার যা সবার থাকেনা...। আমি নিজেও পারতাম না একসময় তবে এখন বেশ বড় করেই "না" বলা শিখে গেছি https://fbstatic-a.akamaihd.net/rsrc.php/v2/yH/r/viyyiQhRqLr.png

দেইখেন আবার "না" বলাটা অভ্যাসে পরিণত করবেন না যেন https://fbstatic-a.akamaihd.net/rsrc.php/v2/yH/r/viyyiQhRqLr.png
_Icarus Er Dana

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

কর্পোরেট পাবলিকের "একটা ফোনও কি দিতে পারনা? " সমাচার ...


কর্পোরেট ভালোবাসার সম্পর্ক ভাঙ্গে গড়ে... এটাই হয়তো নিয়ম।
সম্পর্ক ভাঙ্গার পর কষ্ট পাওয়া ছেলেটা কিংবা মেয়েটা আস্তে আস্তে নিজেকে গুছিয়ে নেয়। কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর অনেকাংশেই সে সফল হয়, কারণ সময়ে সবাই বদলে যায়।
কিন্তু মেজাজ খারাপ হয় তখন যখন দেখা যায় কর্পোরেট পক্ষ কিছুদিন কিংবা অনেকদিন পর ফোন দিয়ে লুতুপুতু শুরু করে।
"সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে তো কি হয়েছে, একটা ফোনও কি দিতে পারনা? একবার তো খোঁজও নিলেনা" টাইপ কথাবার্তা। যেন আপনার জন্য তার দরদ বেয়ে বেয়ে পড়ছে।

এই কাজটা তারা বেশী করে যখন তারা দেখে যাকে সে ছেড়ে গেল সে ভালো আছে কিংবা ভালো অবস্থানে চলে গেছে... অথবা দেখা যায় যে আপনাকে ফোন দেয়ার কোন কারণ নেই, নিতান্তই তার বর্তমান গার্ল/বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করে আপনার সাথে টাইম পাস করতে কল দিয়েছে।

এমন সময় যারা খুব আবেগি... তারা এককালের সেই অতি প্রিয় নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে নিজেকে কনট্রোল করতে পারেন না... কারও কারও সেই ফোন ইগনোর করার মতো সাহসও থাকেনা... কেউ কেউ আবার সেই ফোন রিসিভ করে অনুশোচনা করেন... কেন রিসিভ করলাম??

ফোন রিসিভ করেন আর নাই করেন... কিন্তু এমন সিচুয়েশনে মেজাজ খুবই খারাপ হয়... মেয়েদের ক্ষেত্রে কেমন জানিনা... কিন্তু একজন ছেলে হিসেবে বলতে পারি... এমন হলে ওই পাবলিককে থাবড়ায়ে দাঁত সব ফেলে দিতে ইচ্ছে করে কিংবা পেছন বরাবর একটা কষে *াথি... দিতে মন চায়। 

আপনি  তাকে চান বা না চান কিন্তু এই ছোট্ট একটা ফোনকল মেজাজ স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিক খারাপ করে দিতে যথেষ্ট, কিংবা যারা বেশী ভাবেন তাদের পুরোদিনটাই খারাপ যায়।

এই সমস্যা থেকে একটাই সমাধান, সম্পর্ক ভাঙ্গলে এমনভাবে শেষ করেন যাতে একজন আরেকজনের সাথে কোনভাবেই যোগাযোগ করতে না পারে, বিশেষ করে কর্পোরেট পাবলিকটা যাতে আপনাকে কোনভাবেই খুঁজে না পায়। এক্ষেত্রে প্রথম করনীয় হচ্ছে নাম্বার বদলে ফেলা। সে মরে গেলেও যাতে আপনাকে বলে যেতে না পারে... । কারণ জীবনের যে কোনমুহুর্তে তার অনাকাঙ্খিত কলের কারণে আপনার বর্তমান যদি কয়েকসেকেন্ডও থমকে দাড়ায় তাহলে আলটিমেট লস কিন্তু আপনারই, এমনকি মেজাজ খারাপ হওয়াটাও আপনার লস...। আর নিতান্তই যদি নাম্বার চেঞ্জ করা সম্ভব না হয় তাহলে উচিৎ, ফোন রিসিভ না করা... হাজারবার কল দিলেও কিংবা কেউ যদি বলে, "ভাইয়া একটু কথা বলেন, ও মরে যাচ্ছে"... তখনও না। কারণ মানুষের জন্য মানবিক গুন দেখানো যায় কিন্তু কোন মানুষরূপী কোন অমানুষের জন্য নয়।
_Icarus Er Dana

রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

উহু উত্তর খুঁজে দেখার সময় নেই...

সকাল সাতটা বেজে পনের মিনিট... বাসা থেকে বের হয়েছি বাস স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে। কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না... রিকসার জন্য অপেক্ষা করছি। একটা মোটর চালিত রিকশা আসলো। পারতপক্ষে মোটর চালিত রিকশায় চড়িনা আমি তাই এটা বাদ। আরেকটা পা চালিত রিকশা আসতে দেখা গেল, কিন্তু আমার আগের গলির মুখে একটা মেয়ে দাড়িয়ে ছিল... মেয়েটা ওই রিকশায় উঠে চলে গেল আমার সামনে দিয়ে।

পরের রিকশায় আমি উঠে পড়লাম। আমার যাওয়ার পথে একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আছে। ওই স্কুলের সামনে সিএনজি থেকে স্কুলের একজন শিক্ষিকা টাইপের ইয়াং সাজুগুজু করা আধুনিক একজন মেয়ে/মহিলা নামলেন। উনাকে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার রিকশাচালক (বয়স আনুমানিক ৪০+) হা করে দেখলেন। আবার পাশ কাটিয়ে চলে আসার সময় দুই তিনবার তার ঘাড়টা  বামপাশে ৯০ ডিগ্রী+ ঘুরিয়ে বার বার দেখলেন... এই ব্যাপারটা আগেও খেয়াল করেছি, পাশে কোন মেয়ে হেটে গেলে কিংবা পাশের রিকশায় কোন মেয়ে থাকলে রিকশাচালকেরা বার বার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেস্টা করে।

যাইহোক, বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ালাম ... ভাড়া দিলাম... একমিনিট পর আমার আগে রিকশা নেওয়া সেই মেয়েটাকে বহন করা রিকশাটা এসে থামল...  বুঝলাম না একই দূরত্ব কিন্তু আমার পরে ক্যান?
তারপর খেয়াল করলাম, রিকশায় মেয়েটা আর একা ছিল না... সাথে একটা ছেলেও ছিল। পাশেই একজন কলেজের শিক্ষক ফিজিক্স পড়ান... বুঝা গেল দুজনেই উনার কাছে পড়তে এসেছে... এবং দুজনেই ভালোবাসার মানুষ ।

... একটু পর আরেকটা মেয়ে রিকশা থেকে এসে নামল... মেয়েটা নামার সাথে সাথে একটা সিএনজি মেয়েটার সামনে এসে দাঁড়াল, সিএনজির খোপ খুলে দিল ভেতর থেকে আরেকটা ছেলে... মেয়েটা সিএনজি'তে উঠে ছেলেটার সাথে চলে গেল। তারাও হয়তো ভালোবাসার মানুষ :p

... এভাবে প্রতিদিনই সকালে কিছু ভালোবাসার মানুষের কার্যকলাপ দেখে আমার দিন শুরু হয়... প্রায় সময়ই... তারপর যখন ভেবে দেখি কর্পোরেট ভালোবাসার এই যুগে এমন কয়টা সম্পর্ক টিকে...যে ছেলেটা আজকে সিএনজি নিয়ে মেয়েটার জন্য অপেক্ষা করছে সেই ছেলেটাই যে কাল অন্য মেয়ের জন্য অন্য কোথাও অপেক্ষা করবেনা গ্যারেন্টি কি? কিংবা যে মেয়েটা আজ ছেলেটার সাথে সিএনজিতে করে চলে গেল... সেই মেয়েটাই যে কাল অন্য কোন পুরুষের সাথে গাড়ীতে করে যাবেনা তারই বা নিশ্চয়তা কি?

... উহু উত্তর খুঁজে দেখার সময় নেই... আমার গন্তব্যের বাস চলে আসায় উঠে পড়লাম... পরেরদিন নতুন দৃশ্যের অপেক্ষায়...

_Icarus Er Dana

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

বাবার হোটেলের ছাদের নিচে আর বসে থাকা যাবেনা... আর ছাদ ছেড়ে বাইরে যাওয়া মানেই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা...

একটি জীবন... বেড়ে উঠা... হাটি হাটি পা পা করে স্কুল থেকে কলেজ কলেজ থেকে ইউনিভার্সিটি... তারপর সেই মধ্যবিত্ত চাকুরে জীবন...। 

আজকে কোন কারণে স্যারের পড়াতে ইচ্ছে করছিল না... স্যার নিজের চাকরীর ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন আমাদের। স্যার মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাবা নেই। পড়াশুনা শেষ হওয়ার পর তার উপর চাপ ছিল ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দেয়ার। যখন একটার পর একটা ইন্টারভিউ দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু কোথাও কিছু হচ্ছিল না... ঠিক সেই মুহুর্তে উনি শুনতেন এই বন্ধু ওই বন্ধু চাকরী পেয়ে যাচ্ছে...। মানবিক গুনের কারণে উনার কাছে ব্যাপারটা হতাশার, কারণ একে একে সবার গতি হয়ে যাচ্ছিল তিনি ছাড়া...ইন্টারভিউ বোর্ডের আজাইরা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন শুনে যখন বুঝতে পারতেন এখানেও টাকার খেলা ইচ্ছে করতো সার্টিফিকেটটা ছিরে ফেলতে...। আসলেই জীবনের একটা পর্যায়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কমবেশি এটা ফেস করতে হয়। 

বড়লোকের ছেলেরা সুপারিশের ঠেলায় সহজেই বড় বড় পোস্টে জয়েন করতে পারে। কেউবা বাবার ব্যাবসা ধরে। 

স্যারের কথা শুনছিলাম আর ভাবছিলাম, থার্ড ইয়ার প্রায় শেষ... কয়দিন পরেই ফোর্থ ইয়ারে ...মানে ফাইনাল ইয়ার... দেখতে দেখতে কেটে যাবে... তারপর পৃথিবীর সমস্ত টেনশান মাথার রিসিভারে আঘাত করতে থাকবে একে একে... হঠাত করেই কুয়োর ব্যাঙ যেন সাগরে এসে পড়বে। 

থাকবেনা আজকের এই বন্ধুত্ব আড্ডা হাসি... কিংবা গল্প... প্রতিযোগিতার ভিরে সম্পর্কগুলো আস্তে আস্তে হারানো শুরু করবে... কারও খবর থাকবে কিংবা কারও থাকবেনা... 
বাবার হোটেলের ছাদের নিচে আর বসে থাকা যাবেনা... আর ছাদ ছেড়ে বাইরে যাওয়া মানেই ভয়ঙ্কর বাস্তবতা... ।
_Icarus Er Dana