সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৪

অমানুষের কর্পোরেট ভালোবাসার রূপ বদলায় না।

কেস১/
মেয়েটার সাথে ছেলেটা প্রতারণা করে চলে যায় প্রায় তিন মাস হল। এরই মধ্যে বাস্তবতা মেনে নিয়ে মেয়েটা নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে, ছেলেটাও জানিয়ে দিয়েছে সে নতুন একজনের সাথে জড়িয়েছে।
কিছুদিন পর মেয়েটার মোবাইলে এসএমএস , "আমি তোমাকে হারিয়ে ভুল করেছি... ভালো থেকো ,তুমি অনেক ভালো একটা মেয়ে ব্লা ব্লা... "

এই এসএমএস পেয়ে মেয়েটা এতদিনে নিজেকে যতটা না গুছিয়ে নিয়েছে ঠিক ততটাই অগোছালো অনুভব করা শুরু করে। মনের মধ্যে নানার প্রশ্ন উকি দেয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, "সে কি আমাকে এখনও ভালবাসে?"

কেস২/
ব্রেক-আপের কিছুদিন পর ছেলেটা জানতে পারে তার কর্পোরেট প্রেমিকা নতুন আরেক পাবলিকের সাথে লেগেছে। এসব জানার আগে ছেলেটা মেয়েটাকে ফেরানোর অনেক চেস্টা করলেও এসব জানার পর ছেলেটা সব বাদ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে মনোনিবেশ করে।
কিছুদিন পর, সেই পরিচিত প্রিয় নাম্বার থেকে ফোন। ছেলেটা কল রিসিভ না করে থাকতে পারেনা। রিসিভ করতেই সেই পুরোনো মানুষটার প্রিয় ভয়েস শুনা যায়...

"কেমন আছ?"
"কেন কল দিয়েছ?"
"ওমা আমি তোমাকে কল দিতে পারিনা?"
"না, সেই প্রয়োজন তো নেই"
"হি হি... কেন থাকবেনা? তোমার কি নতুন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে?"
"সবাই তোমার মত না... একটার পর একটা প্রেম করব নাকি?"
"আসলে তোমার কথা মনে পড়ল তাই কল দিলাম...জানি আমি ক্ষমার যোগ্য নই তবু তুমি পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও"

#ছেলেটা এবার একটু নরম হয়ে যায়। অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে ঠিকভাবে কথা বলেনি তাই। মনের মধ্যে ঠিক একইভাবে নানান প্রশ্ন উকি দিতে থাকে... তার মধ্যে একটি প্রশ্ন সবার ক্ষেত্রে কমন, "সে কি আমাকে মিস করে?"

## সোজা বাংলায় এই প্রশ্নের একটাই উত্তর, কর্পোরেট পাবলিকরা কাউকে ভালোবাসতে পারেনা, মিস করেনা।
আর এই ফোন কল কিংবা এসএমএস সে এই কারণে করে যে সে দেখতে চায় তার শোকে কেউ কষ্ট পাচ্ছে কিনা... তাকে ছাড়া কেউ কষ্টে আছে কিনা? যদি এর উত্তর হ্যাঁ হয় সেই পাবলিকটা মনে মনে বেশ মজা পায়, এতটাই মজা পায় যে সে সবাইকে বলে বেড়ায়, "জানিস ওই ছেলে/মেয়ে এখনও আমার জন্য মরে হি হি "

.................. এই হল এসব মানুষরূপী জানোয়ারদের অবস্থা। তাই এদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া তো দূরে থাক... এদের কল কল রিসিভ কিংবা এসএমএস এর রিপ্লায় দেওয়াও উচিৎ না, কিংবা দেখে পুলকিত হওয়াও উচিৎ নয়... চিন্তা ভাবনা কিরে নিজের সময় নষ্ট করলে নিজেরই ক্ষতি। কারণ পৃথিবী বদলে যেতে পারে... কিন্তু অমানুষের কর্পোরেট ভালোবাসার রূপ বদলায় না।
_Icarus Er Dana


বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৪

মধ্যবিত্ত জীবন দ্বিতীয় পত্র...

আস্ক.এফএম এ একটা প্রশ্নের উত্তর দিলাম... প্রশ্নটা ছিল, "মধ্যবিত্তের সপ্ন কি?"
আমার উত্তর ছিল, "মধ্যবিত্তের সপ্ন থাকা অপরাধ"

আসলে অপরাধ কিনা জানিনা, তবে আমাদের মধ্যবিত্তের একটা দোষ অবশ্যই আছে। সেটা হল আমাদের থাক বা না থাক ফুটানি আমাদের দেখানো চাইই... কারণ আমাদের লজ্জা জিনিসটা মারাত্মক রকমের বেশী... এত লজ্জা নিম্ন বিত্তেরও নেই।

যেমন অনেকেই আছেন একটা কাপড় পড়ে একবার কোথাও যাওয়ার পর আবার কোন বড়লোকের অনুষ্ঠানে একই কাপড় পড়ে যাওয়ার আগে চিন্তা করি, "এটা পড়ে যাব? মানুষ কি মনে করবে? মনে করবে আর কাপড় নাই ব্লা ব্লা"

মধ্যবিত্ত জীবনের বেশীরভাগ সিদ্ধান্তই আমরা নেই মানুষ কি মনে করবে এটা চিন্তা করে, এক্ষেত্রে বড়লোক আত্মীয়-স্বজনের কটুকথা বিবেচনা করা হয় । ক্যান ভাই, কে কি মনে করল সেটা ভেবে কি আসে যায়... পকেটে টাকা না থাকলে তারা তো হাতেম তাই হয়ে এসে সাহায্য করে যাবেনা। মানুষ টাকা তাকেই ধার দেয় যার আগে পিছে টাকা বা সম্পদ থাকে, যার কাছে টাকা নেই তাকে কেউ ধার দিতে চায় না। উদাহারন হিসেবে ব্যাঙ্কের কথাই বলা যায়, ব্যাঙ্ক আপনাকে লোন দিবে যদি আপনার একাঊন্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকে... কিংবা কোন কিছু জামানত রাখতে হয়।

.................. একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখলাম, এই পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা কোন অজ্ঞাত কারণে নিপীড়নকারীদের পক্ষে থাকেন... আক্ষেপ থেকে মাঝে মধ্যে এটাই মনেহয়। বেশীরভাগ কর্পোরেট পাবলিকদের দেখবেন ক্ষমতা-টাকা পয়সা সুখ সবই আছে... সুখ আছে কিনা জানিনা আনন্দ অবশ্যই আছে ওদের... আনন্দ আর সুখ এক জিনিস না!!

যেমন আমার কাছের এক বন্ধুর বাবা মারা যাওয়ার পর ওর চাচা ওদের ভাগের সম্পত্তি ঠিকমতো দিতে চাচ্ছেনা... কিছু কিছু ইতিমধ্যে নিজের নামে করিয়ে নিয়েছে...  ওর চাচার যে কিছু নেই এমন না... বেশ প্রভাবশালী ব্যাক্তি, টাকা পয়সা সবই আছে তবু তার মৃত ভাইয়ের সম্পদের ভাগ লাগবে।

আজ সকালে আব্বা আক্ষেপ করে আম্মাকে বলছিল, "এত কষ্ট করে টাকা পয়সা কামাই করে কিছুই করতে পারলাম না... শহরে একটা নিজের বাড়ী করতে পারলাম না"

আম্মা বলে, "হইসে আর শহরে বাড়ী করা লাগবে না... তোমার ছেলে পারলে করবে না পারলে নাই"
... তারপর আম্মারে বললাম, "আম্মা, হালাল টাকা দিয়ে এই যুগে বাড়ি ক্যামনে করি :p"

তারপর আম্মা বলে, "চুপ থাক। খবরদার জীবনে ঘুষ খাবিনা। হারাম টাকা দিয়ে তোর বাড়ি করা লাগবে না। তুই ঘুষ খাবি আর ঐ টাকায় তোর বউ পোলা মজা করবে... তারপর কেয়ামতের দিন তোর বউ বলবে, "আমি কি বলসি আমার জামাইরে ঘুষ খাইতে, সে খাইসে ক্যান?" তোর গুনাহর ভার সে নিবেনা "...

এই হল মধ্যবিত্ত... এদের পেটে খাবার না থাকলেও নীতি ঠিক থাকে... একারণেই হয়তো ধার্মিক মানুষদের বেশীরভাগই মধ্যবিত্ত হয়। এরা বেশ ধর্মভীরু :)


#যাইহোক, আমার মা'র কথা কিন্তু মিথ্যে না... :p 
#Icarus Er Dana

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

অপাত্রে আবেগ বিসর্জন...

কর্পোরেট ভালোবাসায় ধরা খাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন , জীবনে আর কখনো প্রেম আসবেনা... নতুন কাউকে ভালবাসতে পারবনা... কিন্তু  সবার ধারণা মিথ্যে প্রমানিত হয় কয়েক বছরের ভেতরেই... এমন না যে কেউ আবার প্রেমে পড়ে... কিন্তু পড়তে কতক্ষন? আপনি নিজেও জানবেন না যে কখন আপনার জীবনে নতুন কারও অনুপ্রবেশ ঘটতে যাচ্ছে...

সো, কেন বছরের পর বছর শুধুই একজনকে চিন্তা করে পার করা...যার চিন্তায় কখনো এক মুহুর্তের জন্যও আপনি ছিলেন না...। একটা সময়ে গিয়ে সবাই বুঝতে পারে যে, "ইসস ক্যান যে এত সময় নষ্ট করলাম?"

... আজ নিজের আবেগকে হয়তো অপাত্রে বিসর্জন দিচ্ছেন, যদি এমন করতে থাকেন ট্রাস্ট মি... এমন একসময় আসবে যখন আপনি চাইলেও আর কারও জন্য আবেগ অনুভুতি দেখাতে পারবেন না... ভেতরে  থাকলেও না। একটাই কারণ, মানুষকে শুধু ভালবাসলেই হয় না... সেই ভালোবাসা একটু  আধটু প্রকাশও করতে হয় । মানুষের কাছে অপ্রকাশিত ভালোবাসা মিথ্যে হয়ে যায়। আর প্রকাশ করতে না পারলে সেই নতুন মানুষটা আপনাকে ভালোবাসলেও হয়তো হারাতে পারে আপনার অবহেলার কারণে।

আপনার আবেগ অনুভুতি ভালোবাসা কোন কর্পোরেট পাবলিক ডিসার্ভ করেনা... কখনো করেনি। সেটা বুঝতে আপনার যত দেরি হবে আপনি ততই নিজেকে হারাবেন... আর যত বেশী হারাবেন... বুঝতে পারার পর নিজেকে খুজে পেতে ঠিক ততবেশী দেরী হবে...। আলটিমেটলি, যতদেরী করবেন লস আপনারই!!!
লস করলে নতুন কোথাও ইনভেস্ট করে লস করুন... তবুও যে আপনার সাথে একবার প্রতারণা করেছে তার পেছনে নয়..!!

এখন চিন্তা করে দেখেন কি করবেন... কি করা উচিৎ... নিজেকে হারিয়ে ফেলে কোন মানুষ কোনদিন ভালো থাকতে পারেনা...।

সবচাইতে ভালহয়, একবারে বিয়ের জন্য অপেক্ষা করা... এই প্রজেক্টে লস হবার সম্ভাবনা খুবই কম... হুদাই প্রেম-পিরিত করে সময় নষ্ট, টাকা নষ্ট , মাঝে মধ্যে হয়তো জীবন নষ্ট... !!

বিঃ দ্রঃ প্রেম পিরিতি যাই করেন পড়াশুনাটা যাতে ঠিক থাকে... এমনকি দুনিয়া উল্টাই যাবে শুনলেও... https://fbstatic-a.akamaihd.net/rsrc.php/v2/yH/r/viyyiQhRqLr.png
#Icarus_Er_Dana

শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৪

অপরিণত সম্পর্কের অপরিণত সিদ্ধান্ত...

স্কুলে থাকতে আমাদের ক্লাসে একটা ছেলে ছিল রবিন। ছেলে ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়াশুনায় খুবই ভালো ছিল। কিন্তু সে আমার সাথে খুব একটা কথা বলত না ভয়ে... কারণ আমি নাকি কথায় কথায় গালি দিতাম তখন... :p সে ছিল মাম্মি ড্যাডি টাইপ ছেলে... মায়ের কথার বাইরে একফোটাও যেতনা সে। এমনও দিন ছিল যে তাকে আমি একদিন স্কুলের বাইরে ঝালমুড়ি খেতে বলেছিলাম। সে উত্তর দিয়েছিল, "না আমি খাবনা, আম্মু বকা দিবে। এসব খেতে মানা করেছে"... তখন সে ছিল ক্লাস টেনের স্টুডেন্ট!!!

 আমরা দুজনেই এসএসসিতে সোনালী জিপিএ ৫ পেয়ে একই কলেজে ভর্তি হই।উল্লেখ্য কলেজে ভর্তির দিনও ভর্তি ফিস তার মা তার হাতে দেয়নি, যতক্ষন পর্যন্ত তার সিরিয়াল আসেনি ততক্ষন সে তার মায়ের পাশেই ছিল। অন্যদিকে ভর্তির দিন আমি বাসা থেকে কাউকে নিয়ে যাইনি বলে সে অবাকই হয়েছিল... ভর্তি ফিসের কথা টেনে আনলাম কারণ সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, "কাউকে আননি ভর্তি ফিস কে দিবে?"... আমি বলেছিলাম, "ভর্তি ফিস আমার পকেটে আছে"... সে অবাক হয়ে বলেছিল, "যদি হারিয়ে যায় !!!"

এবার আসি আসল কথায়, কিছুদিন পর সেই রবিনই বদলে যেতে থাকে। তারপর তাকে অলিতে গলিতে কলেজের আশেপাশে দেখা যেত একটা মেয়ের সাথে। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মেয়েটা কে? সে উত্তর দিয়েছিল, "তোর ভাবী!!"। আমি তখন আকাশ থেকে পড়ে বেঁচে গেলাম :p
যে ছেলেটা বন্ধুর সাথে দারিয়ে স্কুলে ঝালমুড়ি পর্যন্ত খায়নি সে ছেলেকে দেখা যেত ওই মেয়ের সাথে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে ফুসকা খেতে।
এদিকে ছেলের পড়াশুনায়ও নামে কিছুটা ধস... ব্যাপারনা... প্রেমের মধ্যে থাকলে এসব হতেই পারে :/

কিছুদিন পর বাসায় জানাজানি হয়... অনেক ঝামেলা হয়। ছেলেটা বাপের মাইর খেয়ে কিছুদিন চুপচাপ থাকে... কিন্তু এ গভীর প্রেম বন্ধ হয় না।
ইন্টার পরীক্ষায় রেজাল্ট খুব একটা ভালো হয়না। কোনমতে একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়, কিন্তু ভালো কোন সাবজেক্ট পায় না। এদিকে ওর প্রেমের কারণে বাসা থেকেও কেউ সাপোর্ট দেয় না।

একদিন দুই ফ্যামিলি থেকেই চাপের মুখে পড়ে ছেলেটা বিয়ে করে ফেলে। বাসা নেয় ছোট্ট একটা। দুই বছর আগেও সে আমাকে বলেছিল, "প্লিজ আমার জন্য টিউশনি দেখ... যতদুরে হোক আমি গিয়ে পড়াব!! "...
এরপর থেকে তার আর কোন খবর জানিনা... ফোন নাম্বারও আগেরটা নেই। শুনেছি ভালো নেই সে।

আশাকরি বুঝতে পারছেন রবিনের অবস্থা কেমন হয়েছিল, একমাত্র এই প্রেমের কারণে। মেধাবী এক ছাত্রের ভবিষ্যৎ এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। তার মা-বাবাও হয়তো এমন কোন সপ্ন দেখেন নি।

যা'ই করেন... তার আগে অন্তত একবার ভেবে দেখবেন এর পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ ফলাফলের ভার আপনি বহন করতে পারবেন কিনা... নাকি হারিয়ে যাবেন।
ভুল থাকলে ক্ষমা করবেন।

_Icarus Er Dana

শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৪

"সবাইকে যদি বোন মনে করি তাহলে বউ হবে কে?"


তিন বন্ধু একটা ব্যাঙ্কে গিয়েছে টিউশন ফি জমা দেওয়ার জন্য। লাইনে দাড়িয়ে আছে। পাশের লাইনে একটু দূরে একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে, পেছনের দিকটাই শুধু দেখা যাচ্ছে।  মেয়েটার কাপড় চোপড় কিংবা ভাবভঙ্গিতে অশালীন কিছু ধরা পড়ছে না। তিন বন্ধুর একজন হঠাত বলল, "দেখ দেখ !!"... আরেক বন্ধু বলল, "উহু হবেনা... মোটা... ফিগার ঠিক থাকলেও চেহারা ঠিক নাই"
ওদের দুজনের কথা শুনে অপরজন বলল,"তোদের সমস্যা কি। ওই মেয়েটা কিছু বলসে তোদের... অদ্ভুত!! লাইনে দাঁড়ানো মেয়েটা আমাদের কারও বোন বা রিলেটিভও হতে পারত"

... তৃতীয় জনের এমন কথা শুনে প্রথম দুজন বেশ হাসাহাসি করে বলে, "আরে ব্যাটা সবাইকে যদি বোন মনে করি, বউ হবে কে?"...
#..................আমাদের তথাকথিত আধুনিক শিক্ষিত পুরুষ সমাজে এই কথাটি দিন দিন বিকাশ লাভ করছে। কেউ কাউকে বোন মনে করতে বলা মানেই এমন না যে সে বোন হয়ে যাবে। এখানে তৃতীয় বন্ধুটির কথার মানে ছিল, নিজের বোন হলে তো এতটা খারাপ দৃষ্টিতে দেখত না কেউ, নিজের দৃষ্টি সংযত রাখত। কারণ পাড়ার সবচাইতে বখাটে ছেলেটাও নিজের বোনের ব্যাপারে বেশ রক্ষনশীল, তার চিন্তাধারা এমন যে তার বোনের দিকে কেউ তাকালে চোখ তুলে নেবে কিন্তু সে বিনা লাইসেন্সে অন্যের বোনের ফিগার স্ক্যান করবে!!

কিছু কিছু ছেলে এমন যে, কোন সাধারণ মেয়েও এদের নোংরা দৃষ্টি থেকে বাদ যায় না... হোক সে শালীনভাবে চলাফেরা করছে তবুও।
এক্ষেত্রে একদল পুরুষের বক্তব্য হল, "সে বোরখা পড়েনা ক্যান আমরা আরও বেশী দেখব"
ভাইয়ারা, ইসলাম ধর্মে মেয়েদের পর্দা করতে বলেছে এটা মনে আছে, কিন্তু পুরুষদের যে দৃষ্টি সংযত করতে বলা হয়েছে... এটা মনে থাকেনা কেন? আর যারা বোরখা পড়েনা তাদের দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিগার স্ক্যান করার অনুমতি ইসলাম ধর্ম আপনাকে কবে দিয়েছে?

আবার কোন মেয়ে অশালীন পোশাক পড়ে বের হলে আরেকদল পুরুষের বক্তব্য হল, "মেয়েটা এমন খোলামেলা হয়ে বের হল ক্যান? ও দেখাতে চাচ্ছে আমরা দেখব... ইচ্ছামত বাজে কথা বলব"...
এক্ষেত্রে এদের বলা যায় ঠিক আছে যত ইচ্ছা দেখেন, তবে মনে রাখবেন মেয়েটার কৃতকর্মের জন্য মেয়েটা জবাবদিহি করবে, কিন্তু আপনার দৃষ্টি আর বাজে মন্তব্যের দায়ভার কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে... কারণ আপনি নিজকে মুসলমান দাবী করেন। মেয়েটা আপনাকে দেখিয়েছে তাই আপনি দেখেছেন এমন উত্তর দিয়ে কিয়ামতের দিন পার পাবেন না।

আরেকদল আছে যাদের দৃষ্টি সংযত করার ক্ষেত্রে বোনের উদাহারন দিলে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে,"হে হে আমার কোন বোন নাই"...
এক্ষেত্রে তাদের বলা যায় ঠিক আছে ভাইয়া, আপনার কোন বোন নাই তাই বলে যে আপনি অন্যের বোনের দিকে তাকিয়ে বাজে মন্তব্য করার ওপেন লাইসেন্স পেয়ে গেছেন ব্যাপারটা কিন্তু এমন না। এমন না যে আপনি বেঁচে থাকলে অবিবাহিত থাকবেন কিংবা বিবাহিত হওয়ার পর আপনার ঘরে শুধুই ছেলে সন্তান জন্ম নিবে কোন মেয়ে সন্তান আসবেনা।

.....................আর কিছু বলার নেই।এখন কেউ নিজের মানসিকতা পরিবর্তন করবেন নাকি সব মেয়েকে নিজের বউ মনে করবেন সেটা তার ব্যাপার।বিশেষ কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখিত নই ।

_Icarus Er Dana