শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৪

শুন্যস্থান কখনো শূন্য থাকেনা, সময়ের সাথে সাথে একদিন ধুলো দিয়ে হলেও পূর্ণ হয়ে যায়...

প্রতিটা প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে একটা অতি পরিচিত প্রশ্ন থাকে, "কে বেশী ভালোবাসে? "
প্রকৃতপক্ষে এটা সংখ্যা দিয়ে কখনোই নির্ণয় করা সম্ভব না। তবে এটা সত্যি যে প্রতিটা ভালোবাসার সম্পর্কে এমন একজন থাকে যে অপরজনের চাইতে বেশী ভালোবাসে।
যে অপরজনের চাইতে বেশী ভালোবাসে সেও ব্যাপারটা জানে, আবার যে একটু কম ভালোবাসে সেও জানে যে অপরজন তাকে তার চাইতেও অনেক অনেক বেশী ভালোবাসে।

ঠিক তেমনি প্রতিটা সম্পর্ক শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এমন একজন থাকে, যে আসলেই চায় না সম্পর্কটা শেষ হোক। মাঝেমধ্যে এমনও থাকে যে কেউ চলে যেতে চায়, কিন্তু আবার এটাও চায় যে অপরজন তাকে ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ করুক, সে ফিরে না আসলেও অপরজন যুদ্ধ করুক... যে মানুষটা তাকে ভালোবাসে সেই মানুষটা তাকে ফেরানোর জন্য যে কোন কিছু করছে ব্যাপারটা দেখা আর অনুভব করার মধ্যে পৈশাচিক একটা আনন্দ কাজ করে।

তাহসানের একটা গানের কথা আছে এমন, "বন্ধন সে তো হয়না পুরনো, সম্পর্কগুলোর বয়স হয়না কোন..."
কিন্তু বাস্তবতা এটা বলে যে, সব বন্ধনই পুরনো হয়, কোন বন্ধন বয়সের সাথে সাথে শক্ত হয়, কোনটা হাল্কা হয়ে যায়... সম্পর্কগুলোও ঠিক তেমনি, সব সম্পর্ক প্রতিদিন একই থাকেনা... যে ছেলেটা/মেয়েটা ক্লাস ফাইভে আপনার সবচাইতে ভালো বন্ধু ছিল, সে দশ বছর পরেও সবচাইতে ভালো বন্ধু থাকবে এমন কিছু সবসময় ঘটেনা।

সত্যি হলো, শুন্যস্থান কখনো শূন্য থাকেনা, সময়ের সাথে সাথে একদিন ধুলো দিয়ে হলেও পূর্ণ হয়ে যায়।
_Icarus Er Dana

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

উদ্দেশ্যহীন...

একজন হতাশ মানুষের সাথে যখন আরেকজন হতাশ মানুষ কথা বলে তখন বেশীরভাগক্ষেত্রেই শুধুমাত্র একটা ব্যাপারই ঘটে, দুজনের হতাশা মিলেমিশে একাকার হয়ে আরও বেশী হতাশায় ডুবে যায়।

একজন হতাশ ব্যাক্তির সাথে যখন একজন আশাবাদী ব্যাক্তি কথা বলে তখন দুইটা ব্যাপার ঘটতে পারে, আশাবাদী ব্যাক্তির কথা শুনে হতাশ ব্যাক্তিও আশাবাদী হয় অথবা হতাশ ব্যাক্তির হতাশা দেখে আশাবাদী ব্যাক্তিটাও হতাশ হয়ে পড়ে। হতাশদের কথা শুনে আশাবাদীদের হতাশ হওয়া নতুন কিছু নয়, খুব কম আশাবাদীই বেশীদিন আশা ধরে রাখতে পারে।

তারবিহীন বিদ্যুৎ শক্তি কয়েক মিটারের বেশী পাঠানো সম্ভব না হলেও এই হতাশা হাজার কিলোমিটার দূর থেকেই আদান প্রদান করা যায় অতি সহজে।
সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে ফোন দিয়ে প্রিয়জনের মুখে হতাশার কথা শুনে ওপারে থাকা ব্যাক্তিটাও হতাশ হয়ে যেতে পারে খুব সহজেই। ভাবতেই পারে, কেন এত সব আয়োজন!

হতাশা নিজের মধ্যেই রাখা উচিৎ, পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছে যারা হতাশ না হয়েও হতাশদের মাঝে আশা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

#উদ্দেশ্যহীন...
#Icarus_Er_Dana

শীতকাল প্রেমিকার চাইতে ভালো, অন্তত বছরঘুরে সে একবার আসে নিয়ম করে...

শীতের রাতগুলো আমার ভীষণ প্রিয়। শীতের রাতগুলো জাগতে আমার খারাপ লাগেনা। পরেরদিন খুব সকালে উঠার তাড়া না থাকলে শীতের রাতগুলোতে আমার ঘুমাতে ইচ্ছে করেনা। প্রিয় কিছু গান শুনে বেশ আয়েশ করেই রাত কাটিয়ে দিতে পারি। তবে এক একদিন প্লে-লিস্টে শুধুমাত্র একটাই গান বারে বারে বাজতে থাকে।

শীত একটু একটু করে তার আগমনের কথা জানান দিচ্ছে, কাল রাত একটার দিকে জানালা খোলা থাকায় হাল্কা শীতল বাতাস গায়ে লাগছিল... এটা একটা সহজ ভালো লাগার অনুভূতি। পৃথিবীতে সাধারণত ভালোলাগার অনুভূতিগুলো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পেতে হয়, কিন্তু যে কয়টা সহজে পাওয়া যায় তার মধ্যে শীতকালের এই ব্যাপারটা পেয়েও উপভোগ না করাটা আমার কাছে নিজের প্রতি নিজের অবিচার মনেহয়। ।

শীত আসার আগের সময়টা যেমন ভালো লাগে, ঠিক তেমনি যখন দেখি শীত এসে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে তখন অদ্ভুত একটা হাহাকার কাজ করে মাঝেমধ্যে। শেষেরদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কম্বল ছেড়ে যখন কাঁথা গায়ে দিতে হয় তখন মনেহয় যেন প্রেমিকা সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছে!!
তারপর প্রেমিকার চলে যাওয়ার মতো করে একসময় শীতকাল চলে যায়... সুখের অনুভূতি অনুভব করে রাত জেগে বিলাসিতাও করা হয় না।

তারপরও শীতকাল প্রেমিকার চাইতে ভালো, অন্তত বছরঘুরে সে একবার আসে নিয়ম করে... কিন্তু যে প্রেমিকা একবার চলে যায় সে আর ফিরে আসেনা... ফিরে আসলেও শীতের কম্বলের মতো করে তাকে আর জড়িয়ে নেয়া যায় না :)

#লাইফ ইজ বিউটিফুল
_Icarus Er Dana

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৪

কালো মেয়েটার গল্প...

কতিপয় ফর্সা কন্যা নিজেদের কালো বলে জাহির করার চেষ্টা করে... যাতে তার সামনে থাকা মানুষটা আহ্লাদ করে বলে, "এই কে বলেছে তুমি কালো তুমি অনেক ফর্সা ,সুন্দর " ।
কিন্তু কালো মেয়েটা সবসময় নিজেকে কালোই বলে ... প্রথম ধরণের কন্যাদের মতো উদ্দেশ্য নিয়ে বলেনা।
কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েটার বয়স যখন পড়াশুনা শেষ করে পঁচিশ কিংবা ছাব্বিশ ছুঁইছুঁই তখন পরিবারের টেনশনের চাইতে আশেপাশের আত্নীয়দের হুশ বেহুশ অবস্থা হয়ে যায়। তবে আজ যে মেয়েটাকে নিয়ে লিখছি সে কালো না, শ্যামলা বলা চলে... কিন্তু বিয়ের বাজারে কালো-শ্যামলা একই জিনিস...। কতিপয় পাত্রের মা-বাবা ছেলের জন্য বউ দেখার সময় শুধু দুইটা রঙই চেনেন, কালো আর ফর্সা। মাঝেমধ্যে উনারা নিজেদের গায়ের রঙও ভুলে যেতে ভুল করেন না।

#মেয়েটার বাবার অফিসের এক সহকর্মী মেয়েটাকে বেশ পছন্দ করে তার ছেলের জন্য পাত্রী হিসেবে। উনি সহকর্মীর বাসায় এসে তার কন্যাকে দেখে যান... প্রায় সময়ই কন্যাকে কল দিয়ে কথা বলেন, খোঁজ খবর নেন, মেয়েটাকে বলেন, "তুমি তো আমার মেয়ে... " । যদিও মেয়েটা ছেলেটার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেনা, শুধু পাত্রের ছবি আর বায়োডাটা দেখা ছাড়া। তারপরও তার বাবার হাসিমুখের কথা ভেবে সে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেনা, সে মেনে নেয় তার ভাগ্যকে...। এবার বুঝি বিয়েটা হয়েই যাবে...!!

পাত্রের বাবার হাবভাবে বুঝা যায় সহকর্মীর তনয়াকে তার ছেলের জন্য পাত্রী হিসেবে বেশ ভালোই পছন্দ হয়েছে। উনি জোর করতে থাকেন তার সহকর্মীকে... এক পর্যায়ে ব্যাপারটা এমন দাড়ায় যে পাত্রপক্ষ পরের শুক্রবার মেয়েটাকে দেখতে আসবে... সাথে ছেলে সহ মা-বোন যারা আসার দরকার তারা আসবে... এবং সেদিনই আকদ হয়ে যাবে যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে।
পাত্রপক্ষ আসলো, মেয়েকে দেখল... কথাবার্তা বলল , খাওয়া দাওয়াও করলো... কিন্তু কিছুর কিছুই হলোনা...

পরে জানা গেল, অন্য সবার মেয়ে পছন্দ হলেও ছেলের মায়ের পাত্রী পছন্দ হয়নি, কারণ... মেয়ে কালো!! এখানে উল্লেখ্য পাত্রের মায়ের গায়ের রং কিন্তু ধবল নয়...! কিন্তু তার ছেলের জন্য কালো মেয়েকে বউ করে নেবেন না। তার ফর্সা বউ চাই'ই চাই!

মেয়েটার মন ভাঙ্গে, তার চাইতেও বেশী মন ভেঙ্গে যায় মেয়ের বাবার... এই সমাজে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের বাবাদের মন ভাঙ্গাটা অনেকক্ষেত্রে নিয়ম। তবে উচ্চবিত্ত হলে কথা নেই, মেয়ে কালোহোক ফর্সাহোক সেটা কর্পোরেট পাত্রপক্ষ ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পুষিয়ে নেয়।

এখানে উল্লেখ্য, পাত্রের বাবার কি দরকার ছিল অতি আগ্রহ দেখিয়ে মেয়ের সাথে তথা মেয়ের পরিবারের সাথে ভাব বাড়ানোর, তড়িঘড়ি করে আকদ করে ফেলবে এমন প্রস্তাবের কি দরকার ছিল। এই মেয়ের বাবার মনের রক্তক্ষরণ কি ফর্সা পুত্রবধু চাওয়া মহিলার স্বামী নামক পাত্রের ওই বাবা দেখতে পাবেন?

উপসংহারঃ নারী হয়ে নারীকে সম্মান করুন। নিজে ফর্সা হয়ে তারপর অন্যকে কালো বলে প্রত্যাক্ষান করুন, তার আগে নয়... নারী হিসেবে অন্যকে মূল্যায়ন করার আগে নিজে কতটুকুর যোগ্য তা ভেবে দেখুন।
নারীর শত্রু পুরুষ নয়... সমাজে কিছু নারী আছে যারা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।

পুনশ্চঃ উপরের ঘটনাটা কাল্পনিক নয়... অপ্রাসঙ্গিক এবং বাজে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
_Icarus Er Dana
https://www.facebook.com/icaruser.dana1/posts/589199191208217?ref=notif&notif_t=like

ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বাবা-মা :)

আমার মনে নাকি মায়া দয়া কিছু নেই। আমার মা'র ভাষায় আমি নাকি কাঠের মতো...
আম্মা আজকে কি একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলছিল,"কিছু মানুষের মন নরম হয়, আর কিছু মানুষের বেশ কঠিন মন..."

আমি বললাম,"হু, আমার মন নরম না :D "

"হুম, তুই তো একটা গাছ... তোর ছোটমামার মতো... আমি মরলেও তুই কাদবিনা"

আম্মার মুখে এই কথাটা বেশ কয়েকবার শুনেছি... আমি কোন উত্তর দেইনা।
মাঝেমধ্যে ভাবি... কঠিন হওয়া ভালো। হওয়া উচিৎ...

আব্বার ভাষায় আমি মাঝেমধ্যে অবাধ্য, আমি বড় গলায় কথা বললেই নাকি আব্বার এলার্জী  :p । আব্বার কাছে টাকা চাইলে আব্বা খুব একটা হিসেব করেনা। বলে, "যা টেবিলের উপর আছে/ আলমারী খুলে নে/তোর মাকে বল দিতে" । টাকা নেয়ার পর আব্বা কখনো জিজ্ঞেস করেনা কত নিলাম।

কিন্তু আম্মা যদি কখনো বলে, "যা, আলমারী খুলে নে..." তখন আমি টাকা নেয়ার পরও আবার জিজ্ঞেস করে,"দেখি কত নিলি!!?আমাকে দেখা  " বেশী নিলে বলে, "এত ক্যান  নিসস!! ? " । এটা বললেও আমি অবশ্য ফেরত দেই না :p । কারণ অত বেশীও নেয়া হয় না :)

এই হলো মধ্যবিত্ত পরিবারের মা! যারা পরিবার নামক জাহাজটাকে অতি সুবিন্যস্তভাবে পরিচালনা করেন :)

ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বাবা-মা :)
_Icarus Er Dana

ছাত্রজীবন আসলেই অদ্ভুত সুখের জীবন...

সেদিন মনেহয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, চোখের পলকে তিনটা বছর কেটে গেল। প্রথম প্রথম ভাবতাম উফফ কবে যে ভার্সিটি লাইফ শেষ হবে... কবে যে চাকরী করবো... কিংবা স্বাধীন হব। কিন্তু ইদানিং কেন যেন মনেহয়, মাঝে মধ্যে পরাধীন হয়ে থাকাও খারাপ না। 

ভাবতেই কষ্ট লাগে বাপের হোটেলে এতদিন নিশ্চিন্তে খেয়েছি... কোন চিন্তা ছিলনা... কিন্তু ধীরে ধীরে চিন্তা যেন সময়ের সাথে বাড়ছে। ভালো লাগে এই ভেবে যে, হয়তো তাড়াতাড়ি পড়াশুনা শেষ হলে বাবাকে একটু হলেও সাপোর্ট দিতে পারব। 

কিন্তু দেশের যা অবস্থা... চাকরীর কথা ভাবলেই কি ভাবছিলাম ভুলে যাই। সত্যি বলতে মধ্যবিত্তরা ছা-পোষা জীবন থেকে সহজে মুক্তি পায় না... বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কঠিনেও পায় না। এরা শুধু একটা কাজই করতে পারে সেটা হল স্বপ্ন দেখা... হাজার স্বপ্ন ভাংলেও তারা এই কাজটিই একাগ্রতার সাথে দিনের পর দিন করে যায়। 

ফার্স্ট ইয়ারে ক্লাস করতে কিংবা ক্যাম্পাসে যেতে ইচ্ছে হত না, আর এখন ক্লাস না করলেও ক্যাম্পাসে যাওয়া চাই চাই!!

এই সুখের দিন আর বেশী নেই... ছাত্রজীবন আসলেই অদ্ভুত সুখের জীবন... সময় হলে সবাই বুঝে... প্রতিটা মানুষ কর্মজীবনের প্রতিটা দিন হয়তো ছাত্র জীবনের সুখের দিনগুলো একবার হলেও মনে করে ।
_Icarus Er Dana

কালো ছেলেটার গল্প...



ছেলেটির(রাকিব) গায়ের রং কালো ছিল কালো বলতে একদম গভীর শ্যামবর্নের... আমার স্কুল জীবনের বন্ধু সে। কলেজে এসে দুজনেই দুই কলেজে ভর্তি হই। কোচিং এ এক স্যারের বাসায় সে বায়োলজি পড়তে যেত। সেখানে পড়তে যেত এক আমাদের কলেজের হার্টথ্রব সুন্দরী ফারিয়া। আমি জানতাম আমার এই বন্ধুটা এই মেয়েকে পছন্দ করে, পছন্দ ব্যাপারটা ঠিক পছন্দের পর্যায়ে বেশীদিন সীমাবদ্ধ থাকল না। রাকিব ফারিয়াকে একতরফা ভাবেই ভালোবাসতে শুরু করল, এখানে ফারিয়ার দোষ নেই। আমি জানতাম ফারিয়ার মতো উচ্চবিলাসী মেয়ে কখনোই রাকিব কিংবা আমার মতো ছেলের দিকে ফিরে তাকাবেনা...রাকিবকে প্রথম প্রথম এইসব অনুভুতিকে পাত্তা না দিতে বললেও রাকিব কোন কথাই শুনত না। তবে রাকিব কখনোই ফারিয়াকে প্রপোজ করতো না... সত্যিটা সেও বুঝতে পারত। ফারিয়াও একসময় কোনভাবে এটা জেনে যায়। 

একদিনের ঘটনা, স্যার পড়ানোর সময় কে যেন ফারিয়ার নাম ধরে কোন একটা উক্তি  করল। সাথে সাথে ফারিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে রাকিবের দিকেই তাকালো, যেন রাকিবই এই কাজ করেছে। 
আরেকদিন, দেরীতে আসায় যায়গা না পেয়ে রাকিব একদম পেছনে গিয়ে বসে, এবং ঠিক তার আগের সিটেই ফারিয়া বসা ছিল। কিন্তু রাকিব বসার সাথে সাথে ফারিয়ে ওই জায়গা থেকে উঠে গিয়ে ঠাসাঠাসি করে আগের সারিতে গিয়ে বসে। 

সেদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর, ফারিয়া রাকিবকে ডাকে... ডেকে যা বলে সেটা শোনার জন্য রাকিব প্রস্তুত ছিল না, "এই ছেলে সমস্যা কি তোমার সারাদিন আমার পেছনে ঘুরঘুর কর কেন, লজ্জা নেই তোমার...নিজের চেহারা সম্পর্কে কোন আইডিয়া আছে?"
রাকিবের মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হয় না... সবার সামনে এমন অপমান করার মতো কোন অপরাধ রাকিব করেনি। এই ঘটনার  পর থেকে রাকিব ওই স্যারের কাছে আর পড়তে যায়নি... যদিও ছাগলটা... ফারিয়ার নাম মুখে আনা বন্ধ করেনি এর পরও।

..................... এখন আমার কথা হল, ফারিয়ারা সুন্দরী এটাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই... সে রাকিবকে পছন্দ করতো না তাতেও কোন সমস্যা নেই... কিন্তু রাকিবের চেহারার কথা উল্লেখ করে... সবার সামনে তাকে অপমান করার অধিকার কেউ তাকে দেয় নি। আপনাকে কেউ পছন্দ করতেই পারে... আবার তাকে আপনার পছন্দ নাও হতে পারে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার... কিন্তু তারমানে এই না যে আপনি তাকে অপমান করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন। একটা মানুষকে তার শারীরিক কোন একটা বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপমান করার অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি। 

ভুলে যাবেন না, আজকের এই টান টান সুন্দর চামড়া চিরদিন একই থাকবে না... এই চামড়া ঢিলে হয়ে যাবে সময়মত... কারও যৌবন কিংবা সৌন্দর্য চিরদিন থাকেনা... এই কথাটা কিছু অহংকারী আপু মনেহয় প্রতিদিন আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরই ভুলে যায়। অবশ্য তারা ভুলবেই বা না কেন, আমরা কিছু লুলায়িত ছেলেরাই তো দিনরাত উনাদের ছবিতে কমেন্ট করে যাই, "উফফ তুমি এত সুন্দর কেন? প্রেমে পড়ে যাব তো!!"

#Icarus_Er_Dana
https://www.facebook.com/corporate.love/posts/841196002564297?ref=notif&notif_t=notify_me