শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৪

শুন্যস্থান কখনো শূন্য থাকেনা, সময়ের সাথে সাথে একদিন ধুলো দিয়ে হলেও পূর্ণ হয়ে যায়...

প্রতিটা প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্কে একটা অতি পরিচিত প্রশ্ন থাকে, "কে বেশী ভালোবাসে? "
প্রকৃতপক্ষে এটা সংখ্যা দিয়ে কখনোই নির্ণয় করা সম্ভব না। তবে এটা সত্যি যে প্রতিটা ভালোবাসার সম্পর্কে এমন একজন থাকে যে অপরজনের চাইতে বেশী ভালোবাসে।
যে অপরজনের চাইতে বেশী ভালোবাসে সেও ব্যাপারটা জানে, আবার যে একটু কম ভালোবাসে সেও জানে যে অপরজন তাকে তার চাইতেও অনেক অনেক বেশী ভালোবাসে।

ঠিক তেমনি প্রতিটা সম্পর্ক শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এমন একজন থাকে, যে আসলেই চায় না সম্পর্কটা শেষ হোক। মাঝেমধ্যে এমনও থাকে যে কেউ চলে যেতে চায়, কিন্তু আবার এটাও চায় যে অপরজন তাকে ধরে রাখার জন্য যুদ্ধ করুক, সে ফিরে না আসলেও অপরজন যুদ্ধ করুক... যে মানুষটা তাকে ভালোবাসে সেই মানুষটা তাকে ফেরানোর জন্য যে কোন কিছু করছে ব্যাপারটা দেখা আর অনুভব করার মধ্যে পৈশাচিক একটা আনন্দ কাজ করে।

তাহসানের একটা গানের কথা আছে এমন, "বন্ধন সে তো হয়না পুরনো, সম্পর্কগুলোর বয়স হয়না কোন..."
কিন্তু বাস্তবতা এটা বলে যে, সব বন্ধনই পুরনো হয়, কোন বন্ধন বয়সের সাথে সাথে শক্ত হয়, কোনটা হাল্কা হয়ে যায়... সম্পর্কগুলোও ঠিক তেমনি, সব সম্পর্ক প্রতিদিন একই থাকেনা... যে ছেলেটা/মেয়েটা ক্লাস ফাইভে আপনার সবচাইতে ভালো বন্ধু ছিল, সে দশ বছর পরেও সবচাইতে ভালো বন্ধু থাকবে এমন কিছু সবসময় ঘটেনা।

সত্যি হলো, শুন্যস্থান কখনো শূন্য থাকেনা, সময়ের সাথে সাথে একদিন ধুলো দিয়ে হলেও পূর্ণ হয়ে যায়।
_Icarus Er Dana

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

উদ্দেশ্যহীন...

একজন হতাশ মানুষের সাথে যখন আরেকজন হতাশ মানুষ কথা বলে তখন বেশীরভাগক্ষেত্রেই শুধুমাত্র একটা ব্যাপারই ঘটে, দুজনের হতাশা মিলেমিশে একাকার হয়ে আরও বেশী হতাশায় ডুবে যায়।

একজন হতাশ ব্যাক্তির সাথে যখন একজন আশাবাদী ব্যাক্তি কথা বলে তখন দুইটা ব্যাপার ঘটতে পারে, আশাবাদী ব্যাক্তির কথা শুনে হতাশ ব্যাক্তিও আশাবাদী হয় অথবা হতাশ ব্যাক্তির হতাশা দেখে আশাবাদী ব্যাক্তিটাও হতাশ হয়ে পড়ে। হতাশদের কথা শুনে আশাবাদীদের হতাশ হওয়া নতুন কিছু নয়, খুব কম আশাবাদীই বেশীদিন আশা ধরে রাখতে পারে।

তারবিহীন বিদ্যুৎ শক্তি কয়েক মিটারের বেশী পাঠানো সম্ভব না হলেও এই হতাশা হাজার কিলোমিটার দূর থেকেই আদান প্রদান করা যায় অতি সহজে।
সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকে ফোন দিয়ে প্রিয়জনের মুখে হতাশার কথা শুনে ওপারে থাকা ব্যাক্তিটাও হতাশ হয়ে যেতে পারে খুব সহজেই। ভাবতেই পারে, কেন এত সব আয়োজন!

হতাশা নিজের মধ্যেই রাখা উচিৎ, পৃথিবীতে খুব কম মানুষই আছে যারা হতাশ না হয়েও হতাশদের মাঝে আশা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

#উদ্দেশ্যহীন...
#Icarus_Er_Dana

শীতকাল প্রেমিকার চাইতে ভালো, অন্তত বছরঘুরে সে একবার আসে নিয়ম করে...

শীতের রাতগুলো আমার ভীষণ প্রিয়। শীতের রাতগুলো জাগতে আমার খারাপ লাগেনা। পরেরদিন খুব সকালে উঠার তাড়া না থাকলে শীতের রাতগুলোতে আমার ঘুমাতে ইচ্ছে করেনা। প্রিয় কিছু গান শুনে বেশ আয়েশ করেই রাত কাটিয়ে দিতে পারি। তবে এক একদিন প্লে-লিস্টে শুধুমাত্র একটাই গান বারে বারে বাজতে থাকে।

শীত একটু একটু করে তার আগমনের কথা জানান দিচ্ছে, কাল রাত একটার দিকে জানালা খোলা থাকায় হাল্কা শীতল বাতাস গায়ে লাগছিল... এটা একটা সহজ ভালো লাগার অনুভূতি। পৃথিবীতে সাধারণত ভালোলাগার অনুভূতিগুলো অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে পেতে হয়, কিন্তু যে কয়টা সহজে পাওয়া যায় তার মধ্যে শীতকালের এই ব্যাপারটা পেয়েও উপভোগ না করাটা আমার কাছে নিজের প্রতি নিজের অবিচার মনেহয়। ।

শীত আসার আগের সময়টা যেমন ভালো লাগে, ঠিক তেমনি যখন দেখি শীত এসে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে তখন অদ্ভুত একটা হাহাকার কাজ করে মাঝেমধ্যে। শেষেরদিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কম্বল ছেড়ে যখন কাঁথা গায়ে দিতে হয় তখন মনেহয় যেন প্রেমিকা সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলছে!!
তারপর প্রেমিকার চলে যাওয়ার মতো করে একসময় শীতকাল চলে যায়... সুখের অনুভূতি অনুভব করে রাত জেগে বিলাসিতাও করা হয় না।

তারপরও শীতকাল প্রেমিকার চাইতে ভালো, অন্তত বছরঘুরে সে একবার আসে নিয়ম করে... কিন্তু যে প্রেমিকা একবার চলে যায় সে আর ফিরে আসেনা... ফিরে আসলেও শীতের কম্বলের মতো করে তাকে আর জড়িয়ে নেয়া যায় না :)

#লাইফ ইজ বিউটিফুল
_Icarus Er Dana

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৪

কালো মেয়েটার গল্প...

কতিপয় ফর্সা কন্যা নিজেদের কালো বলে জাহির করার চেষ্টা করে... যাতে তার সামনে থাকা মানুষটা আহ্লাদ করে বলে, "এই কে বলেছে তুমি কালো তুমি অনেক ফর্সা ,সুন্দর " ।
কিন্তু কালো মেয়েটা সবসময় নিজেকে কালোই বলে ... প্রথম ধরণের কন্যাদের মতো উদ্দেশ্য নিয়ে বলেনা।
কালো কিংবা শ্যামলা মেয়েটার বয়স যখন পড়াশুনা শেষ করে পঁচিশ কিংবা ছাব্বিশ ছুঁইছুঁই তখন পরিবারের টেনশনের চাইতে আশেপাশের আত্নীয়দের হুশ বেহুশ অবস্থা হয়ে যায়। তবে আজ যে মেয়েটাকে নিয়ে লিখছি সে কালো না, শ্যামলা বলা চলে... কিন্তু বিয়ের বাজারে কালো-শ্যামলা একই জিনিস...। কতিপয় পাত্রের মা-বাবা ছেলের জন্য বউ দেখার সময় শুধু দুইটা রঙই চেনেন, কালো আর ফর্সা। মাঝেমধ্যে উনারা নিজেদের গায়ের রঙও ভুলে যেতে ভুল করেন না।

#মেয়েটার বাবার অফিসের এক সহকর্মী মেয়েটাকে বেশ পছন্দ করে তার ছেলের জন্য পাত্রী হিসেবে। উনি সহকর্মীর বাসায় এসে তার কন্যাকে দেখে যান... প্রায় সময়ই কন্যাকে কল দিয়ে কথা বলেন, খোঁজ খবর নেন, মেয়েটাকে বলেন, "তুমি তো আমার মেয়ে... " । যদিও মেয়েটা ছেলেটার সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেনা, শুধু পাত্রের ছবি আর বায়োডাটা দেখা ছাড়া। তারপরও তার বাবার হাসিমুখের কথা ভেবে সে অসন্তুষ্টিও প্রকাশ করেনা, সে মেনে নেয় তার ভাগ্যকে...। এবার বুঝি বিয়েটা হয়েই যাবে...!!

পাত্রের বাবার হাবভাবে বুঝা যায় সহকর্মীর তনয়াকে তার ছেলের জন্য পাত্রী হিসেবে বেশ ভালোই পছন্দ হয়েছে। উনি জোর করতে থাকেন তার সহকর্মীকে... এক পর্যায়ে ব্যাপারটা এমন দাড়ায় যে পাত্রপক্ষ পরের শুক্রবার মেয়েটাকে দেখতে আসবে... সাথে ছেলে সহ মা-বোন যারা আসার দরকার তারা আসবে... এবং সেদিনই আকদ হয়ে যাবে যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে।
পাত্রপক্ষ আসলো, মেয়েকে দেখল... কথাবার্তা বলল , খাওয়া দাওয়াও করলো... কিন্তু কিছুর কিছুই হলোনা...

পরে জানা গেল, অন্য সবার মেয়ে পছন্দ হলেও ছেলের মায়ের পাত্রী পছন্দ হয়নি, কারণ... মেয়ে কালো!! এখানে উল্লেখ্য পাত্রের মায়ের গায়ের রং কিন্তু ধবল নয়...! কিন্তু তার ছেলের জন্য কালো মেয়েকে বউ করে নেবেন না। তার ফর্সা বউ চাই'ই চাই!

মেয়েটার মন ভাঙ্গে, তার চাইতেও বেশী মন ভেঙ্গে যায় মেয়ের বাবার... এই সমাজে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের বাবাদের মন ভাঙ্গাটা অনেকক্ষেত্রে নিয়ম। তবে উচ্চবিত্ত হলে কথা নেই, মেয়ে কালোহোক ফর্সাহোক সেটা কর্পোরেট পাত্রপক্ষ ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পুষিয়ে নেয়।

এখানে উল্লেখ্য, পাত্রের বাবার কি দরকার ছিল অতি আগ্রহ দেখিয়ে মেয়ের সাথে তথা মেয়ের পরিবারের সাথে ভাব বাড়ানোর, তড়িঘড়ি করে আকদ করে ফেলবে এমন প্রস্তাবের কি দরকার ছিল। এই মেয়ের বাবার মনের রক্তক্ষরণ কি ফর্সা পুত্রবধু চাওয়া মহিলার স্বামী নামক পাত্রের ওই বাবা দেখতে পাবেন?

উপসংহারঃ নারী হয়ে নারীকে সম্মান করুন। নিজে ফর্সা হয়ে তারপর অন্যকে কালো বলে প্রত্যাক্ষান করুন, তার আগে নয়... নারী হিসেবে অন্যকে মূল্যায়ন করার আগে নিজে কতটুকুর যোগ্য তা ভেবে দেখুন।
নারীর শত্রু পুরুষ নয়... সমাজে কিছু নারী আছে যারা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।

পুনশ্চঃ উপরের ঘটনাটা কাল্পনিক নয়... অপ্রাসঙ্গিক এবং বাজে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
_Icarus Er Dana
https://www.facebook.com/icaruser.dana1/posts/589199191208217?ref=notif&notif_t=like

ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বাবা-মা :)

আমার মনে নাকি মায়া দয়া কিছু নেই। আমার মা'র ভাষায় আমি নাকি কাঠের মতো...
আম্মা আজকে কি একটা ব্যাপার নিয়ে কথা বলছিল,"কিছু মানুষের মন নরম হয়, আর কিছু মানুষের বেশ কঠিন মন..."

আমি বললাম,"হু, আমার মন নরম না :D "

"হুম, তুই তো একটা গাছ... তোর ছোটমামার মতো... আমি মরলেও তুই কাদবিনা"

আম্মার মুখে এই কথাটা বেশ কয়েকবার শুনেছি... আমি কোন উত্তর দেইনা।
মাঝেমধ্যে ভাবি... কঠিন হওয়া ভালো। হওয়া উচিৎ...

আব্বার ভাষায় আমি মাঝেমধ্যে অবাধ্য, আমি বড় গলায় কথা বললেই নাকি আব্বার এলার্জী  :p । আব্বার কাছে টাকা চাইলে আব্বা খুব একটা হিসেব করেনা। বলে, "যা টেবিলের উপর আছে/ আলমারী খুলে নে/তোর মাকে বল দিতে" । টাকা নেয়ার পর আব্বা কখনো জিজ্ঞেস করেনা কত নিলাম।

কিন্তু আম্মা যদি কখনো বলে, "যা, আলমারী খুলে নে..." তখন আমি টাকা নেয়ার পরও আবার জিজ্ঞেস করে,"দেখি কত নিলি!!?আমাকে দেখা  " বেশী নিলে বলে, "এত ক্যান  নিসস!! ? " । এটা বললেও আমি অবশ্য ফেরত দেই না :p । কারণ অত বেশীও নেয়া হয় না :)

এই হলো মধ্যবিত্ত পরিবারের মা! যারা পরিবার নামক জাহাজটাকে অতি সুবিন্যস্তভাবে পরিচালনা করেন :)

ভালো থাকুক পৃথিবীর সমস্ত বাবা-মা :)
_Icarus Er Dana

ছাত্রজীবন আসলেই অদ্ভুত সুখের জীবন...

সেদিন মনেহয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, চোখের পলকে তিনটা বছর কেটে গেল। প্রথম প্রথম ভাবতাম উফফ কবে যে ভার্সিটি লাইফ শেষ হবে... কবে যে চাকরী করবো... কিংবা স্বাধীন হব। কিন্তু ইদানিং কেন যেন মনেহয়, মাঝে মধ্যে পরাধীন হয়ে থাকাও খারাপ না। 

ভাবতেই কষ্ট লাগে বাপের হোটেলে এতদিন নিশ্চিন্তে খেয়েছি... কোন চিন্তা ছিলনা... কিন্তু ধীরে ধীরে চিন্তা যেন সময়ের সাথে বাড়ছে। ভালো লাগে এই ভেবে যে, হয়তো তাড়াতাড়ি পড়াশুনা শেষ হলে বাবাকে একটু হলেও সাপোর্ট দিতে পারব। 

কিন্তু দেশের যা অবস্থা... চাকরীর কথা ভাবলেই কি ভাবছিলাম ভুলে যাই। সত্যি বলতে মধ্যবিত্তরা ছা-পোষা জীবন থেকে সহজে মুক্তি পায় না... বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কঠিনেও পায় না। এরা শুধু একটা কাজই করতে পারে সেটা হল স্বপ্ন দেখা... হাজার স্বপ্ন ভাংলেও তারা এই কাজটিই একাগ্রতার সাথে দিনের পর দিন করে যায়। 

ফার্স্ট ইয়ারে ক্লাস করতে কিংবা ক্যাম্পাসে যেতে ইচ্ছে হত না, আর এখন ক্লাস না করলেও ক্যাম্পাসে যাওয়া চাই চাই!!

এই সুখের দিন আর বেশী নেই... ছাত্রজীবন আসলেই অদ্ভুত সুখের জীবন... সময় হলে সবাই বুঝে... প্রতিটা মানুষ কর্মজীবনের প্রতিটা দিন হয়তো ছাত্র জীবনের সুখের দিনগুলো একবার হলেও মনে করে ।
_Icarus Er Dana

কালো ছেলেটার গল্প...



ছেলেটির(রাকিব) গায়ের রং কালো ছিল কালো বলতে একদম গভীর শ্যামবর্নের... আমার স্কুল জীবনের বন্ধু সে। কলেজে এসে দুজনেই দুই কলেজে ভর্তি হই। কোচিং এ এক স্যারের বাসায় সে বায়োলজি পড়তে যেত। সেখানে পড়তে যেত এক আমাদের কলেজের হার্টথ্রব সুন্দরী ফারিয়া। আমি জানতাম আমার এই বন্ধুটা এই মেয়েকে পছন্দ করে, পছন্দ ব্যাপারটা ঠিক পছন্দের পর্যায়ে বেশীদিন সীমাবদ্ধ থাকল না। রাকিব ফারিয়াকে একতরফা ভাবেই ভালোবাসতে শুরু করল, এখানে ফারিয়ার দোষ নেই। আমি জানতাম ফারিয়ার মতো উচ্চবিলাসী মেয়ে কখনোই রাকিব কিংবা আমার মতো ছেলের দিকে ফিরে তাকাবেনা...রাকিবকে প্রথম প্রথম এইসব অনুভুতিকে পাত্তা না দিতে বললেও রাকিব কোন কথাই শুনত না। তবে রাকিব কখনোই ফারিয়াকে প্রপোজ করতো না... সত্যিটা সেও বুঝতে পারত। ফারিয়াও একসময় কোনভাবে এটা জেনে যায়। 

একদিনের ঘটনা, স্যার পড়ানোর সময় কে যেন ফারিয়ার নাম ধরে কোন একটা উক্তি  করল। সাথে সাথে ফারিয়া ঘাড় ঘুরিয়ে রাকিবের দিকেই তাকালো, যেন রাকিবই এই কাজ করেছে। 
আরেকদিন, দেরীতে আসায় যায়গা না পেয়ে রাকিব একদম পেছনে গিয়ে বসে, এবং ঠিক তার আগের সিটেই ফারিয়া বসা ছিল। কিন্তু রাকিব বসার সাথে সাথে ফারিয়ে ওই জায়গা থেকে উঠে গিয়ে ঠাসাঠাসি করে আগের সারিতে গিয়ে বসে। 

সেদিন ক্লাস শেষ হওয়ার পর, ফারিয়া রাকিবকে ডাকে... ডেকে যা বলে সেটা শোনার জন্য রাকিব প্রস্তুত ছিল না, "এই ছেলে সমস্যা কি তোমার সারাদিন আমার পেছনে ঘুরঘুর কর কেন, লজ্জা নেই তোমার...নিজের চেহারা সম্পর্কে কোন আইডিয়া আছে?"
রাকিবের মুখ দিয়ে একটা শব্দও বের হয় না... সবার সামনে এমন অপমান করার মতো কোন অপরাধ রাকিব করেনি। এই ঘটনার  পর থেকে রাকিব ওই স্যারের কাছে আর পড়তে যায়নি... যদিও ছাগলটা... ফারিয়ার নাম মুখে আনা বন্ধ করেনি এর পরও।

..................... এখন আমার কথা হল, ফারিয়ারা সুন্দরী এটাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই... সে রাকিবকে পছন্দ করতো না তাতেও কোন সমস্যা নেই... কিন্তু রাকিবের চেহারার কথা উল্লেখ করে... সবার সামনে তাকে অপমান করার অধিকার কেউ তাকে দেয় নি। আপনাকে কেউ পছন্দ করতেই পারে... আবার তাকে আপনার পছন্দ নাও হতে পারে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার... কিন্তু তারমানে এই না যে আপনি তাকে অপমান করার লাইসেন্স পেয়ে গেছেন। একটা মানুষকে তার শারীরিক কোন একটা বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপমান করার অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি। 

ভুলে যাবেন না, আজকের এই টান টান সুন্দর চামড়া চিরদিন একই থাকবে না... এই চামড়া ঢিলে হয়ে যাবে সময়মত... কারও যৌবন কিংবা সৌন্দর্য চিরদিন থাকেনা... এই কথাটা কিছু অহংকারী আপু মনেহয় প্রতিদিন আয়নায় নিজের চেহারা দেখার পরই ভুলে যায়। অবশ্য তারা ভুলবেই বা না কেন, আমরা কিছু লুলায়িত ছেলেরাই তো দিনরাত উনাদের ছবিতে কমেন্ট করে যাই, "উফফ তুমি এত সুন্দর কেন? প্রেমে পড়ে যাব তো!!"

#Icarus_Er_Dana
https://www.facebook.com/corporate.love/posts/841196002564297?ref=notif&notif_t=notify_me

একে অপরকে বুঝে চলুন... পরস্পরের মতামতের প্রাধান্য দিন... ভালো থাকুন...



প্রেম করে যেসব মেয়ে বিয়ে করে তাদের কেউ কেউ মাঝে মধ্যে বলে থাকেন, "ও(সাবেক প্রেমিক, বর্তমান স্বামী) অনেক বদলে গেছে... আমাকে আগের মতো ভালোবাসেনা"... তারা যুক্তি এর পেছনে দেখায় যে স্বামী মনে করে, "এখন তো বিয়ে হয়ে গেছে আমাকে ছেড়ে কই যাবে, পেয়ে গেছে তো তাই আর মুল্য নেই"

ছেলে হিসেবে স্বীকার করছি এই কথা আংশিকভাবে সত্য। বিয়ে তো হয়েই গেছে এখন আর কই যাবেন... কিন্তু তার মানে এই না যে আপনার স্বামী আপনাকে আর ভালোবাসে না। 

কেউ কেউ বলেন, "আগে আমার কথায় উঠত আর বসত আর এখন আমার কোন কথাই শুনেনা... "
অদ্ভুত আপনি কি আপনার প্রেমিককে স্বামী হিসেবে চান নাকি কাজের ছেলে হিসেবে যে আপনার হ্যা'তে হ্যাঁ আর না তে না বলবে!! মানছি প্রেম করার সময় আপনার সব কথাই শুনত, তবে একটা ব্যাপার কি চিন্তা করে দেখেছেন, বিয়ের আগ পর্যন্ত আপনার বেশীরভাগ হ্যাঁ/না ছিল প্রেম সম্পর্কিত, আপনাকে হারানোর ভয়ে অনেক কিছুই হয়তো গিলেছে বেচারা ... কিন্তু আজ বিয়ের পরে সেটা তেমন কিছু নাও হতে পারে।আপনার পারিবারিক সব সিদ্ধান্ত যে শুধুমাত্র আপনিই নেবেন আপনার স্বামী শুধু হ্যাঁ/না বলে যাবে এটাই কি আপনি চান!! অবশ্যই স্বামীর উচিৎ পারিবারিক সব সিদ্ধান্ত স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে নেয়া। তবে স্ত্রীও যেন খেয়াল রাখে প্রেমের সময়ের মতো কঙ্কিছু যেন স্বামীর উপর চাপিয়ে দেয়া না হয়, "তুমি আমাকে আগের মতো ভালোবাসনা " কথাটা বলে আবেগীয় হুমকি না দেয়!! দিয়ে বলা, "জান, কি কর? ভাত কি দিয়ে খাইস, হাত দিয়ে নাকি মাংস দিয়ে? গোসল করেছ? কোন সাবান দিয়ে, লাক্স নাকি Dove"
 
আশ্চর্য ভাই, আপনি বুঝেন না... বিয়ের আগের জীবন আর পরের জীবন আকাশ পাতাল পার্থক্য। প্রেম জীবনে ছেলেটার ঘাড়ে কোন দায়িত্ব ছিল না, বাপের রেস্তারায় খেয়ে দেয়ে আপনার পিছনে ঘুরেছে... রেস্টুরেন্টে খেয়েছে... রাস্তায় দাড়িয়ে আপনাকে ফুসকা খাইয়ে দিয়েছে... কিন্তু এখন বিয়ে পর... এই দায়িত্বহীন ছেলেটাও বুঝতে পারছে... ভবিষ্যৎ বলে কিছু আছে। তাই সে সারাদিন কাজে ব্যাস্ত থাকে... আপনার আপনার সন্তান কিংবা অনাগত ভবিষ্যতের জন্য। তাই সে প্রতি ঘন্টায় কল না দিয়ে চার ঘন্টা পর নাহয় একবার কল দিল। কারও সাথে সাক্ষাতে থাকা অবস্থায় আপনার ফোন রিসিভ নাইবা করল... কি এমন ক্ষতি এতে... এতেই কি ভালোবাসা কমে যায়!!! একবারও কি জানতে চেয়েছেন, অসময়ে মিটিঙে থাকা অবস্থায় আপনার ফোন রিসিভ করে আপনার স্বামী তার বসের কাছে ঝাড়ি খেয়েছে কি না!!! 

আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না... আপনার স্বামী দিন-রাত পরিবারের সুখের জন্য কতটা চিন্তা করে যা বিয়ের আগের সেই বাউন্ডুলে প্রেমিক ছেলেটা বছরে একবারও মাথায় আনত কি না সন্দেহ... !!
কোথায় আপনি তার ব্যাপারটা বুঝার চেষ্টা না করে... সে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর তাকে যদি "আমায় তুমি একটুও ভালোবাসনা, অনেক বদলে গেছ" নামক ইস্যু বের করেন... তখন দাম্পত্য জীবনে কলহ তো ঘটবেই...!!!
হুদাই, প্রেম জীবন এবং বিয়ের পরের জীবন এক করে চিন্তা করতে যাওয়া কিংবা এদের মধ্যে তুলনা করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। 

একে অপরকে বুঝে চলুন... পরস্পরের মতামতের প্রাধান্য দিন... ভালো থাকুন...।

বিঃদ্রঃ সব মেয়ে এক না এইটা আমিও জানি, তাই কেউ মনে করিয়ে দিতে হবেনা।
আর আমি কিন্তু এখনও বিয়ে করিনি, পারিপার্শ্বিক ঘটনাগুলো দেখেই এই পোস্ট।
#Icarus_Er_Dana

https://www.facebook.com/corporate.love/posts/838861759464388?ref=notif&notif_t=notify_me

কম দিয়ে বেশী চাওয়ার প্রবনতা...



কম দিয়ে বেশী চাওয়ার প্রবনতায় ভুগছি আমরা সবাই...।

১। ভালবাসতে গেলেন, ভালবাসেন কাউকে। অথচ সবসময় চান, আপনার প্রিয় মানুষটাকে আপনি যতটা ভালবাসেন সে আপনাকে তারচাইতেও অনেক বেশী ভালবাসুক।

২। ভাল রেজাল্ট চান, অথচ সবসময় চান্স খুঁজেন কিভাবে কম পড়ে বেশী ভাল রেজাল্ট করা যায়।

৩। শপিং করতে কিংবা বাজারে গেলেন। ভাল জিনিসটা চান কিন্তু চেষ্টা করেন বিক্রেতাকে টাকা কম দিতে। 

৪। মন থেকে অনেক বেশী করে চান ভাল মানুষ হতে, কিন্তু সেই অনুযায়ী কাজ করেন কম।

৫। জীবনে সফলতার হাত ধরতে চান কিন্তু পরিশ্রম করার বেলায় চান কম পরিশ্রমে সহজে উন্নতি করতে। 

শেষকথা,আমরা কম দিয়ে যতই বেশী চাই না কেন প্রায় সময়ই যতটা দেই ঠিক ততটা কিংবা তার চাইতে কিছুটা কমই পাই। যতটা কম পাই ততটা হল লস। এই পৃথিবীতে কোনকিছুই আইডিয়াল না সবকিছুতে কম বেশী লস থাকবেই।

রিকশাকে ঘিরে ছোট্ট একটা জটলা...



সেদিন বিকেলে বাস থেকে নেমে দেখি একটু সামনে একটা রিকশাকে ঘিরে ছোট্ট একটা জটলা। সামনে গিয়ে দেখি, একটা মেয়ের ওড়না রিকশার চাকার সাথে পেঁচিয়ে গিয়েছে... মোটর রিকশার উচ্চগতির কারণে ওড়নাটা এত দ্রুত পেঁচিয়ে গিয়েছে যে, ওই কাপড়ের খুব ছোট্ট অংশই চাকার বাইরে আছে। ওই মুহুর্তে খেয়াল করলাম ওড়না ছাড়ানোয় ব্যাস্ত রিকশাওয়ালা ছাড়া বাকী প্রায় সবাই ওই মেয়েটার দিকেই তাকিয়ে আছে... কেন তাকিয়ে আছে সেটা বলার প্রয়োজনবোধ করছিনা। আমিও যে তাকাইনি তা বলছি না... ওই মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম কয়েক সেকেন্ড... শুধু একটা ব্যাপারই চোখে পড়েছে... মেয়েটা পারছিলনা লজ্জা আর অপমানে কেঁদে দিতে...। আমি জানিনা এরপর কি হয়েছে কারণ তাড়া থাকার কারণে গন্তব্যের পথ ধরি।

কয়েকদিন আগে বসন্ত বরণে শাড়ি পড়ায় অনভ্যস্ত মেয়েদের শাড়ি সামলানোর অসতর্ক মুহুর্ত নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম বলে ইনবক্সে কয়েকটা মেয়ের ঝাড়ি শুনতে হয়। শুনতে হয় "পুরুষদের চোখ খারাপ" এমন কথা... একজন তো বলেই বসেছেন, "এই ছেলে, তোমাদের মন মানসিকতা এত নিচু কেন? রাস্তায় মেয়ে ছাড়া অন্যকোনদিকে চোখ যায় না? ফালতু কোথাকার" আমি কিছু বলার আগেই ওনার নীল নাম কাল হয়ে গিয়েছিল। 

সত্যি বলতে, উনারা ঠিকই বলেছেন পুরুষদের(সবাই না) চোখ খারাপ...একটা উদাহারন দেই, ছেঁড়া শার্ট পড়া ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কেউ কল্পনাও করতে চায় না এই ছেলেটাই হয়তো মেধাবী ছাত্র কিংবা সাদা মনের মানুষ, সবার আগে চোখে পড়ে ছেলেটার শার্ট ছেড়া... ঠিক তেমনি একটা ইনোসেন্ট মেয়ে কতটুকু ভাললাগা থেকে বসন্ত বরণে শাড়ি পড়েছে সেটা ভেবে দেখার আগে মেয়েটার অসতর্ক অবস্থায় পুরুষরা (সবাই না) অন্যকিছু খোঁজার চেষ্টা করে। পার্থক্য শুধু এখানেই, কেউ প্রথমবারেই চোখ ফিরিয়ে নেয় যাতে মেয়েটা লজ্জা না পায়, আর কেউবা লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আমরা কেউ চাইনা কোন বোন বিব্রতকর পরিস্থতিতে পড়ুক। ...
বসন্ত বরণে রঙ্গিন শাড়ি পড়া আনাড়ি কোন মেয়ের অসতর্ক মুহুর্তকে যদি উপরের রিকশা দুর্ঘটনার সাথে তুলনা করি... তাহলে মনেহয়না আমাকে আর কিছু বলতে হবে।
জানি, এরপরেও কিছু আপু বলবেন, "ছেলেরা চোখ ঠিক কর"...বিশ্বাস করেন আপু যারা চোখ ঠিক করার তাদেরকে চোখ ঠিক করতে বলতে হয় না... আর যারা করেনা তাদের শত বলায়ও হয় না... মাঝে মধ্যে হয়তো ভুলে তারা নিজের মা-বোনকেও চিনতে না পেরে মন্তব্য করে বসে।

এতকথা কেন বললাম? নিজেও একজন পুরুষ হিসেবে এমন কিছু পুরুষ দেখেছি যারা রাস্তায় হেঁটে যাওয়া কোন মেয়েকে নিয়ে কি কি চিন্তা করতে পারে তা যদি আপনাদের বলি আপনারা কোন যুক্তি ছাড়াই পুরুষদের জানোয়ার বলে গালি দেবেন। কিন্তু সব মেয়ে যেমন এক না সেইমত সব পুরুষ নিশ্চয়ই এক না। 

আমরা চাইনা কোন মেয়েকে নিয়ে কোন পুরুষরূপী কিছু নিম্ন মানসিকতার মানুষ খারাপ কিছু চিন্তা করুক। আমার সল্পজ্ঞানে যতটুকু পেরেছি বুঝিয়ে বলার চেস্টা করেছি, এরপরও যদি ভুল থাকে তাহলে ক্ষমাপ্রার্থী।
#Icarus_Er_Dana

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=827034667313764&id=347489765268259&refid=17